‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্তকরণের জন্য মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামকে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে পাঁচ সদস্যের এই কমিটি গঠনে বিষয়ে জানানো হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ শীর্ষক বিলটি পাসের মাধ্যমে মূলত মূল আইনের ২০ নম্বর ধারাটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়। ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে জুয়া খেলা বা এর প্রচারণার অপরাধগুলো আর সাইবার সুরক্ষা আইনের অধীন বিচার্য থাকছে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে বিলটি পাসের জন্য উপস্থাপন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, কমিটি ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে।

২০১৮ সালের ডিজিাল নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল পাস হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইনের ২০ ধারায় বলা ছিল, কোনও ব্যক্তি যদি সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার উদ্দেশ্যে কোনো পোর্টাল, অ্যাপস বা ডিভাইস তৈরি ও পরিচালনা করেন, জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করেন কিংবা এতে সহায়তা ও উৎসাহ প্রদান করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এমনকি জুয়ার বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণ বা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচারণা চালালেও তা অপরাধের আওতায় পড়তো। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড, অনধিক ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল।সাইবার আইন থেকে এই ধারাটি বিলুপ্ত করার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেছেন মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে মূলত এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে ডিজিটাল ও অফলাইন উভয় মাধ্যমের জুয়া এবং বেটিং সংক্রান্ত অপরাধগুলো আরও কঠোর ও সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন, সুনির্দিষ্ট এবং বিস্তারিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষায়িত আইন তৈরি হওয়ার কারণেই সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে এই ধারাটি বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে একই অপরাধের জন্য একাধিক আইনের ওভারল্যাপিং বা আইনি জটিলতা তৈরি না হয়। বিলটি পাসের পর থেকে এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে সংশোধনীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন/কেএ/ জেডআরসি/২ জুলাই ২০২৬
