সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবারও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ও বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগ বাদে দেশের বাকি সাত বিভাগের অনেক জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে।
একই সময়ে উজানে ভারতের মেঘালয় ও আসামে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া সোমবার সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তায় বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, মঙ্গলবার সাত বিভাগেই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার থেকে দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। রাজধানীতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নতুন মেঘমালা বৃষ্টিপাত বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বেড়েছে, কুশিয়ারা কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিনে নদী দুটির পানি আবারও বাড়তে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে যেসব এলাকায় বন্যা রয়েছে, সেখানে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির উচ্চতা ছিল ৫২ দশমিক ১০ মিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইসগেট খুলে রাখা হয়েছে।
জনপ্রশাসন/ এম কে এ/ জেডআরসি/ ২১ জুলাই ২০২৬
