অতিরিক্ত লাইসেন্সের কড়াকড়ি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও আর্থিক ঝুঁকির কারণে দেশের তরল জ্বালানি খাতে ব্যবসা পরিচালনা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। এই খাতের সংকট নিরসনে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করাসহ প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই দাবি জানিয়েছে।
মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই খাতে একটি মাত্র ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রায় ১০ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন লাইসেন্স বা ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়। এসব লাইসেন্স সংগ্রহ ও নবায়ন করতে গিয়ে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ সময়, অতিরিক্ত অর্থ এবং নানা ধরনের প্রশাসনিক হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বিবৃতিতে মালিক সমিতি উল্লেখ করে, তরল জ্বালানি খাতে পাম্প মালিকেরা মূলত নির্দিষ্ট কমিশনভিত্তিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। এই খাতের মূল মুনাফা চলে যায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর পকেটে। অথচ এজেন্টদের আগাম টাকা পরিশোধ করে ডিপো থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হয়। অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে অনেক সময় বাকিতে তেল বিক্রি করতে হয়, যা পরে অনাদায়ী পাওনার বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করে।
ব্যবসায়ীরা জানান, একদিকে ব্যবসার খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রশাসনিক নির্দেশনা ও শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে সৎ ও নিয়ম মেনে ব্যবসা করা সাধারণ উদ্যোক্তাদের পক্ষে বাজারে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে এসব সমস্যা তুলে ধরা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সব জেনেও ব্যবসাবান্ধব কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি দ্রুত লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া ও হয়রানি কমানো, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অবসান এবং কমিশনভিত্তিক এজেন্টদের জন্য সুনির্দিষ্ট আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের নীতি নির্ধারকদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
জনপ্রশাসন/ কেএ/ জেডআরসি/ ০৪ জুলাই ২০২৬
