সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, চার কর্মকর্তাকে শোকজ

লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের  সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কাজে তদারকিতে দায়িত্ব অবহেলার কারণে উপসহকারী প্রকৌশলীসহ ৪ কর্মকর্তাকে শোকজ করেছে পৌর প্রশাসন। এ ছাড়া অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ত্যথ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন।

নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সড়ক সংস্কার কাজে তদারকিতে অবহেলার কারণে উপসহকারী প্রকৌশলী সোহাগ আলী ও কার্য সহকারী ফাহাদ হোসেনকে লিখিতভাবে শোকজ করেছেন পৌর প্রশাসক। এ ছাড়া উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইসহাক ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিনকে শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সড়ক সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকল্প পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মোস্তফা অ্যান্ড সন্স’-এর স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলামকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে সাইট থেকে নিম্নমানের সব মালামাল অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালককে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ‘রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইউটিডিপি)’ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্যাকেজটির অধীনে ত্রিমোহনী হয়ে এএনএম ফজলুল করিম রোড থেকে পলিটেকনিক রোড পর্যন্ত এবং মাওলানা রেহান উদ্দিন রোড ও রামগতি রোড থেকে ঢাকা-রায়পুর রোড পর্যন্ত বিসি সড়ক, ড্রেন, স্ট্রিট লাইট ও ফুটপাতের উন্নয়নকাজ চলছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ঠিকাদার সড়কের ম্যাকাডমের জন্য অতি নিম্নমানের খোয়া এবং ড্রেনের কাজে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করছিলেন। এর আগে তাকে মৌখিক ও লিখিতভাবে সতর্ক করা হলেও তিনি তা কর্ণপাত না করে নিম্নমানের মালামাল দিয়ে কাজ চালিয়ে যান। এ অবস্থায় সব ধরনের কাজ বন্ধ রেখে সাইট থেকে অতি নিম্নমানের মালামাল ৩ দিনের মধ্যে অপসারণ করে কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি কিনে নেন ফিরোজ আলম নামের এক স্থানীয় ব্যবসায়ী (ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘অঙ্গ শোভা’র মালিক)। শুরু থেকেই তিনি কাজে ব্যাপক অনিয়ম করে আসছেন। খোয়ার বদলে রাবিশ এবং ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। রোববার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে এসব অভিযোগের সত্যতা পান।

জনপ্রশাসন/কেএ/২০ জুলাই ২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *