হেপাটাইটিস এখন বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর এ রোগে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যার বেশিরভাগই লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের কারণে হয়।
বাংলাদেশের পরিস্থিতিকেও উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস ‘সি’ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের একটি। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি এ তথ্য জানায়।
সংস্থাটির মতে, সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সক্রিয় হেপাটাইটিস ‘সি’ সংক্রমণের হার প্রায় ০.৬% হলেও ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী ব্যক্তি, নিয়মিত রক্ত গ্রহণে নির্ভরশীল রোগী এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার মানুষ নতুন করে হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয় এবং প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ এ দুই সংক্রমণের কারণে প্রাণ হারায়।
শীর্ষ ১০-এ রয়েছে যেসব দেশ
বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ভারত, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, ঘানা, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভিয়েতনাম রয়েছে শীর্ষ ১০ এর তালিকায়।
যেভাবে ছড়ায়
সংক্রমিত রক্ত, অপরিষ্কার সুচ ও অরক্ষিত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি ও সি। হেপাটাইটিস এ ও ই সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। বর্তমানে কার্যকর চিকিৎসার মাধ্যমে হেপাটাইটিস সি সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব এবং হেপাটাইটিস বি দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

হেপাটোলজি সোসাইটির তথ্য বলছে, দেশে ৮৫ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত। এর মধ্যে পুরুষ ৫৭ লাখ, নারী ২৮ লাখ। ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রজননক্ষম ১৮ লাখ নারীর এই রোগ আছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শিশু চার লাখ। দেশের প্রায় ১৫ লাখ পরিবারে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ রয়েছে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯ থেকে ২০ বছর বয়সীদের মধ্যে টিকা দেওয়া সত্ত্বেও মাত্র ২৮% শরীরে পর্যাপ্ত সুরক্ষা রয়েছে। প্রতি ২০০ জনে একজন হেপাটাইটিস বি-পজিটিভ। তাই শুধু টিকার ওপর নির্ভর না করে সর্বজনীন স্ক্রিনিং জরুরি। আরেক গবেষণায় জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের ৭৬.৬% হেপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস ‘বি’-র প্রতিরোধে নিরাপদ ও কার্যকর টিকা বহু বছর ধরে সচল রয়েছে। এছাড়া, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের কল্যাণে হেপাটাইটিস ‘সি’ এখন সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।
তবুও লোকলজ্জা, অজ্ঞতা, প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার ঘাটতি এবং শুরুতে কোনো বড় লক্ষণ প্রকাশ না পাওয়ার কারণে অধিকাংশ রোগী একদম শেষ পর্যায়ে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে চিকিৎসা জটিল ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।
কীভাবে নিরাময় সম্ভব
নবজাতকের জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নিশ্চিত করা ও নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জাতীয় স্বাস্থ্য কর্মসূচির সাথে হেপাটাইটিস পরীক্ষা ও চিকিৎসা একীভূত করা।
জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত জটিলতামুক্ত সহজ চিকিৎসা সেবা বিকেন্দ্রীকরণ করা। নজরদারি জোরদার এবং জাতীয় তথ্য সংগ্রাহক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
জনপ্রশাসন/ এফওয়াই/ জেডআরসি/ ২৮ জুলাই ২০২৬
