দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও কি মুখোমুখি হতে চলেছে বাংলাদেশ-ভারত? গত এক বছরের রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় টানাপোড়েন পেরিয়ে দেশ দুটির ক্রিকেট সম্পর্কের বরফ অবশেষে গলতে শুরু করেছে।
ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য সুখবর—সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই মাঠে গড়াতে চলেছে ভারত ও বাংলাদেশের হাই-ভোল্টেজ হোয়াইট-বল সিরিজ!
ক্রিকেটীয় সম্পর্কের নতুন ভোর: গত এক বছরে ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেটে যে শীতল স্রোত বয়ে গিয়েছিল, তা ছিল ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম আলোচনার বিষয়। টি-২০ বিশ্বকাপ বিতর্ক থেকে শুরু করে আইপিএল চলাকালীন মুস্তাফিজুর রহমানের দেশে ফেরা—প্রতিটি ঘটনাই দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের দূরত্বকে স্পষ্ট করেছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী বলছে, মাঠের লড়াই আবার শুরু হতে চলেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে সম্প্রতি ২০২৬-২৭ মৌসুমের আন্তর্জাতিক ম্যাচের টেলিভিশন ও ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্বের জন্য যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, তাতেই মিলল সবথেকে বড় ইঙ্গিত। ওই নথিতে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে—‘ভারতের বাংলাদেশ সফর ২০২৬’। এই একটি নামই এখন কোটি কোটি ক্রিকেটভক্তের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
কেন এই সিরিজ এত গুরুত্বপূর্ণ: পর্দার আড়ালে দুই বোর্ডের আলোচনা যে ইতিবাচক মোড় নিয়েছে, তা বিসিবি-র টেন্ডার থেকেই পরিষ্কার।
বিসিসিআইর বিশেষ পরিকল্পনা: শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের অতিরিক্ত টি-২০ সিরিজের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বিসিসিআই যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই নিজেদের সূচি বরাদ্দ করে রেখেছে।
৩. ৩+৩ ফরম্যাট: জানা যাচ্ছে, এই সিরিজে ৩টি ওয়ানডে এবং ৩টি টি-২০ ম্যাচ হবে। অর্থাৎ, ক্রিকেটপ্রেমীরা পাবেন ছয় ম্যাচের পূর্ণাঙ্গ বিনোদন।
মাঠের লড়াইয়ের অপেক্ষায় সমর্থকরা: ভারত ও বাংলাদেশের লড়াই মানেই গ্যালারিতে টানটান উত্তেজনা, আর মাঠজুড়ে স্ফুলিঙ্গ। দীর্ঘ তিক্ততা কাটিয়ে দুই দল যখন বাইশ গজে মুখোমুখি হবে, তখন তা শুধু একটি ক্রিকেট সিরিজ থাকবে না, হয়ে উঠবে দুই দেশের সম্পর্কের পুনরুত্থানের প্রতীক।
বিশ্লেষকদের মতে, বিসিসিআই-এর এই সিদ্ধান্ত মাঠের বাইরের সব বিতর্ককে পেছনে ফেলে ক্রিকেটের জয়গান গাইতে সাহায্য করবে। যদিও দুই বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও টেন্ডার প্রক্রিয়ার এই ধাপ সিরিজটিকে এখন প্রায় নিশ্চিতভাবেই দাবি করছে।
সেপ্টেম্বরের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় এখন বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীরা। দুই দেশের খেলোয়াড়দের ব্যাটে-বলের লড়াই দেখার জন্য প্রস্তুত বিশ্ব। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কবে আনুষ্ঠানিকভাবে আসবে সেই বহু কাঙ্ক্ষিত ঘোষণা!
তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ড ও নির্ভরযোগ্য সূত্র।
জনপ্রশাসন/কেএ/২ জুলাই, ২০২৬
