স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ

চলতি বছরের শেষ দিকে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে-কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না। এই বিষয়ে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় দলটির কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ে তৈরি হয়েছে স্পষ্ট মতভেদ।

উপদেষ্টার মন্তব্য ও উত্তপ্ত রাজনীতি: গত ১০ জুন তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত। তিনি বলেছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে। যদিও পরে তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন, তবুও বিএনপির অন্দরে এটি বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিএনপি নেতারা একে উপদেষ্টার ‘ব্যক্তিগত মতামত’ দাবি করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করছেন।

আইনি ও নৈতিক কঠোর অবস্থান: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

তাদের মতে, আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ দল। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। দলীয় দুর্নীতি ও বিগত ১৬ বছরের কর্মকাণ্ডের দায় নিয়ে আগে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন নেতারা।

ব্যক্তি পরিচয়ে নির্বাচনের সুযোগ: অন্যদিকে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

তাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলহীন বা নির্দলীয়। আইন অনুযায়ী যে কেউ ব্যক্তি পরিচয়ে লড়তে পারেন। বিএনপি বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কারও অধিকার খর্ব করতে চায় না। তবে শর্ত একটাই—প্রার্থীকে বিগত দিনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকা যাবে না।

তৃণমূলের উদ্বেগ ও আইনশৃঙ্খলা শঙ্কা: মাঠপর্যায়ের নেতারা এই ইস্যুতে অনেকটা আতঙ্কে আছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি। এই মুহূর্তে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই সমীচীন হবে না। তৃণমূল নেতাদের আশঙ্কা, আওয়ামী লীগকে সুযোগ দিলে এলাকায় নতুন করে অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইছে না।

বিএনপি আপাতত ‘ধীরে চলো’ নীতি অবলম্বন করছে। একদিকে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার দায়বদ্ধতা, অন্যদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের জনমতের প্রতি সম্মান জানানো—এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখাই বিএনপির জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে শেষ পর্যন্ত আইনি জটিলতা নিরসন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই দলটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

জনপ্রশাসন/ কেএ/ জেডআরসি/ ০৪ জুলাই ২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *