প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার সারাদেশে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণাকালে এবং বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে ‘চিকিৎসাকেন্দ্রিক’ থেকে ‘প্রতিরোধমূলক’ ব্যবস্থায় রূপান্তর করা। এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং বড় হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নিয়োগ পরিকল্পনা: আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া মাতৃস্বাস্থ্য সেবাকে আরও শক্তিশালী করতে আগামী তিন বছরে ২৫ হাজার প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নারীদের অংশগ্রহণ: এই নিয়োগে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্তদের ৮০ শতাংশই নারী হবেন।
কার্যক্রম: নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ প্রতিরোধ এবং মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন। সরকার ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে, যেখানে বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো আগের মতোই সচল থাকবে এবং তাদের সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে।
চিকিৎসক নিয়োগ: স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে দ্রুত ৫ হাজার এমবিবিএস (MBBS) ডাক্তার নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়ে বলেছেন, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ দেশের বড় হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শুধু বাজেট বরাদ্দ বা বিনিয়োগ বাড়ালেই স্বাস্থ্যসেবার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হবে না। পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজিয়ে গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। চিকিৎসক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের নিজ নিজ দায়িত্ব ও পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয়তা, অগ্রাধিকার, কার্যকারিতা ও পরিবেশগত বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে। সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে প্রস্তুত। তবে সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং বৈশ্বিক সেরা চর্চা অনুসরণ করে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন করতে হবে।
এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন প্রমুখ।
জনপ্রশাসন/ কেএ/ জেডআরসি/ ০৪ জুলাই ২০২৬
