সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় এক লন্ডন প্রবাসীর জমি হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে ইন্ধন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, স্থানীয় এক ব্যক্তির যোগসাজশে শান্তিগঞ্জ থানার ওসি মো. অলিউল্লাহ ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে প্রতিনিয়ত হেনস্তা করছেন।
জানা যায়, শান্তিগঞ্জ এলাকার লন্ডন প্রবাসী আব্দুল আউয়ালের ভোগদখলীয় একটি জমির ওপর দীর্ঘদিন ধরে নজর ছিল জয়নাল আবেদীন নামের এক ব্যক্তির। ওই জমিটি নিজের দাবি করে সম্প্রতি থানায় একটি আরজি জানান জয়নাল। ভুক্তভোগী আব্দুল আউয়ালের অভিযোগ, এই আরজির ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত না করেই ওসি অলিউল্লাহর প্রত্যক্ষ ইন্ধনে জয়নাল আবেদীন তাঁদের জমি দখলের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন।
পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী আব্দুল আউয়াল বলেন,
“যে জমিটি জয়নাল আবেদীন নিজের বলে দাবি করছে, তার প্রকৃত মালিক আমি এবং জমিটি আমারই ভোগদখলে রয়েছে। জয়নাল মূলত একজন দালাল ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। সে থানা-পুলিশের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় এবং কেউ টাকা দিতে অপারগ হলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। এবার সে পুলিশের সাথে আঁতাত করে আমাকে ও আমার ছেলে মাহবুব রহমানকে অন্যায়ভাবে হেনস্তা করছে।”
ভুক্তভোগীর দাবি, জয়নাল ও ওসি অলিউল্লাহর যোগসাজশে এর আগেও তাঁকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে একটি ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, ওই মামলায় বাদীপক্ষ যাঁদের সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করেছিল, তাঁরা পরবর্তীতে আদালতে হলফনামা দিয়ে জানান যে— অসৎ উদ্দেশ্যে তাঁদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে এবং মামলা সংক্রান্ত কোনো বিষয়েই তাঁরা অবগত নন। আব্দুল আউয়ালের অভিযোগ, এসব কিছু জেনেও থানা-পুলিশ জয়নালের অন্যায় উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সহায়তা করে যাচ্ছে।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এবং বক্তব্য গ্রহণের জন্য শান্তিগঞ্জ থানার ওসি মো. অলিউল্লাহর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
জনপ্রশাসন/কেএসসি/ জেডআরসি/ ০৯ জুলাই ২০২৬
