স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেয়েছেন মো. বেলাল হোসেন। এর আগে তিনি এই অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্বে ছিলেন। রবিবার (১৯ চুলাই) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ৭৮ হাজার টাকা নির্ধারিত স্কেলে (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেনকে প্রধান প্রকৌশলী পদে এই পদোন্নতি দেওয়া হলো। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনকে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই একই দিনে তিনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-২) হিসেবেও পদোন্নতি পান এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) কাজী গোলাম মোস্তফার স্থলাভিষিক্ত হন। পরবর্তীতে গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব লাভ করেন।
বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও সাফল্য ১৯৯২ সালে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে এলজিইডিতে কর্মজীবন শুরু করেন মো. বেলাল হোসেন। চাকরির শুরুতেই কুমিল্লা বোর্ডে দুই মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। মাঠপর্যায়ে দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে তিনি শ্রেষ্ঠ উপজেলা প্রকৌশলীর পুরস্কার লাভ করেন।
২০১২ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে গাইবান্ধা জেলায় যোগদানের পর সততা ও সাহসিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এই কর্মকর্তা। সেখানে বিভিন্ন প্রভাবশালী অসাধু রাজনৈতিক চক্রের অবৈধ চাপ ও বদলির চেষ্টা মোকাবিলা করে তিনি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে পেশাদারত্বের স্বাক্ষর রাখেন। পরবর্তীতে নীলফামারী জেলায় কাজের গুণগত মান ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ তাকে সেখানে বদলি করে।

২০২০ সালের মার্চ মাসে এলজিইডির সদর দপ্তরে উপপ্রকল্প পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন বেলাল হোসেন। এ সময় তিনি গাইবান্ধা পৌরসভার ঘাঘট লেকের উন্নয়ন ও ‘বৃহৎ ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প’-এর অসমাপ্ত কাজগুলো সুচারুভাবে সম্পন্ন করেন।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম ক্যাবল স্টেইড ব্রিজের পরিকল্পনা, নকশা ও দরপত্র আহ্বানের কাজটি দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের সহযোগিতায় সফলভাবে সম্পন্ন করেন তিনি।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে এলজিইডির প্রশাসন শাখার দায়িত্ব নেন। গত বছরের ১২ অক্টোবর তিনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে সদর দপ্তরে মানবসম্পদ উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ শাখার দায়িত্ব পান। কর্মক্ষেত্রে কাজের গুণগত মান বজায় রেখে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের গতি এগিয়ে নিতে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখছেন।
শিক্ষা ও ব্যক্তিগত জীবন মেধাবী এই প্রকৌশলী ১৯৬৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার নগরাজপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. রুহুল আমিন এবং মাতা মোছা: ফজিলাতুন্নাহার।
মো. বেলাল হোসেন ১৯৮২ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৮৪ সালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। এরপর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), রাজশাহী (বর্তমান রুয়েট) থেকে ১৯৮৯ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। বিএসসিতে তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।
পেশাগত প্রয়োজনে তিনি পরিবেশ, সরকারি ক্রয়, সার্ভিস রুলস, মান নিয়ন্ত্রণ, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, জিআইএস, দারিদ্র্য বিমোচন ও অংশগ্রহণমূলক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে তিনি থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, লাওস, চীন, জাপান,カナডা, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন।
জনপ্রশাসন/এনএম/জেডআরসি/ ২০ জুলাই ২০২৬
