বিআরটিএর আদেশ কাগজেই, বাসের জানালা থেকে এখনো সরেনি ‘প্রাণঘাতী’ রড

জরুরি অবস্থায় বাসের জানালাই যেখানে জীবন বাঁচানোর প্রধান পথ, সেখানে সেই পথই অবরুদ্ধ হয়ে আছে লোহার খাঁচায়। সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত উদ্ধারকাজ নিশ্চিত করতে নন-এসি বাসের জানালার মাঝের স্টেইনলেস স্টিলের পাইপ অপসারণে প্রশাসনিক নির্দেশ জারি হয়েছিল মাস চারেক আগে। কিন্তু চার মাস পেরিয়ে গেলেও রাজপথের চিত্র বদলায়নি একটুও।

তদারকির অভাব, পরিবহন মালিকদের অজুহাত আর বিআরটিএর অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতায় কাগজে-কলমেই আটকে আছে এই জীবনরক্ষাকারী নির্দেশনা।

সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নির্দেশনা অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের দ্রুত বের হওয়া নিশ্চিত করতেই জানালার মাঝের স্টিলের পাইপগুলো খুলে ফেলার কথা ছিল। কিন্তু সরেজমিনে রাজধানীর সড়কগুলোতে দেখা যায়—রোদ থেকে বাঁচতে পর্দা ঝোলানোর ছুতোয় পাইপগুলো যথাস্থানেই রেখে দেওয়া হয়েছে। বিআরটিসির নিজস্ব বাসেও এই পাইপ অপসারণের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শামসুন্নাহারের মতে, বাস উল্টে গেলে বা আগুন লাগলে জানালাই জীবন বাঁচানোর একমাত্র পথ। কিন্তু জানালার মাঝের এই রডগুলো সে সুযোগ বন্ধ করে দেয়।

সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তির কথা জানলেও বাস্তবে কোনো তদারকি বা মোবাইল কোর্টের অভিযান চোখেই পড়েনি।

গণপরিবহনের চালকদের দাবি, রোদ থেকে রক্ষার পর্দা বাঁধতেই এই রড ব্যবহার করা হয়; এটি সরানো নিষিদ্ধ—এমন কোনো তথ্য তারা আগে শোনেননি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল ইসলাম জানান, বিআরটিএর তরফ থেকে এমন কোনো লিখিত চিঠি বা আদেশ তাদের হস্তগত হয়নি। তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সত্যতা যাচাই করে সমিতির আগামী সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কর্মীরা মনে করেন, কেবল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে দায় শেষ করলে চলবে না। বিআরটিএর কার্যকর তদারকি, নিয়মিত অভিযান এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে দুর্ঘটনার সময় জানালার এই লোহার পাইপগুলো যাত্রীদের জন্য ‘ফাঁদ’ হয়েই থাকবে।

জনপ্রশাসন/কেএ/২০ জুলাই ২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *