বিদেশে আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারী কর্মী পাচার, অমানুষিক নির্যাতন এবং কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৫৭টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ অনুসন্ধানী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এজেন্সিগুলো দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে নারী কর্মীদের পাঠানোর নামে মানবপাচার ও আর্থিক জালিয়াতির সাথে জড়িয়ে পড়েছে।
মূল অভিযোগসমূহ
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থাটির তালিকায় থাকা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে যেসব সুনির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ভুয়া ভিসায় নারী পাচার: ভালো বেতন ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের কথা বলে নারীদের বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না দিয়ে সেখানে মানবপাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়া।
শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন: আকামা বা বৈধ কাগজপত্র না দিয়ে গৃহকর্মীর নামে নারীদের অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখে ঠেলে দেওয়া।
অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও মানি লন্ডারিং: নিয়মবহির্ভূতভাবে লাইসেন্স ব্যবহার করে দালাল চক্রের মাধ্যমে নারীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার (মানি লন্ডারিং) করা।
সিন্ডিকেট জালিয়াতি: একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভুয়া চুক্তিপত্র তৈরি করে কর্মীদের প্রতারিত করা।
দুদকের গৃহীত পদক্ষেপ
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ৫৭টি এজেন্সির মালিকদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের বিস্তারিত তথ্য খোঁজা হচ্ছে।
সম্পদের হিসাব তলব: সন্দেহভাজন এজেন্সির মালিকদের আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং তাঁদের অর্জিত সম্পত্তির বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে।
লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ: জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET)-এর সাথে সমন্বয় করে যেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে নারী পাচারের প্রত্যক্ষ প্রমাণ মিলছে, তাদের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে।
মামলা দায়ের: প্রাথমিক সত্যতা মেলায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি এজেন্সির বিরুদ্ধে মানবপাচার ও দুর্নীতি দমন আইনে মামলার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও সরকারি বার্তা
প্রবাসী কল্যাণ বিশ্লেষকরা জানান, অনিবন্ধিত দালাল ও অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সির কারণেই নারী কর্মীরা বিদেশে গিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। এটি প্রতিরোধে দ্রুত দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
জনশক্তি ব্যুরোর (BMET) পক্ষ থেকে বিদেশগামী নারী কর্মী ও তাদের স্বজনদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেকোনো এজেন্সির সাথে চুক্তি করার আগে তাদের বৈধতা যাচাই করে নেওয়ার জন্য।
জরুরি সেবা: বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো এজেন্সি বা দালাল দ্বারা প্রতারিত কিংবা পাচারের শিকার হলে অবিলম্বে দুদক হটলাইন ১০৬ অথবা জনশক্তি ব্যুরোর অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন/কেএ/ ২৭ জুলাই ২০২৬
