সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল থেকে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের ডাকা হরতালে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে ঢাকা-খাগড়াছড়া মহাসড়কের ফটিকছড়ি অংশ এবং পলোগাজী দিঘী-হেঁয়াকো সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সকাল থেকে নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেঁয়াকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, ফার্মেসি, ক্লিনিক ও জরুরি সেবাপ্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। এদিকে বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গাম্ভীরা, হেঁয়াকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাট এলাকায় অন্তত ২০ থেকে ২৫টি স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। তবে সকাল পর্যন্ত কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা সংঘর্ষের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘একটি উপজেলার প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষের মতামতকে অগ্রাহ্য করা যায় না। চারটি ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক মানুষের মতামত উপেক্ষা করে একটি ইউনিয়নের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এতে আড়াই লাখ মানুষকে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারায়ণহাটের বাসিন্দা বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর ভুজপুর মৌজায় নেওয়া হয়েছে। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে দুটি উপজেলা সদর রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
আন্দোলনকারী বলেন, উপজেলার নাম যখন ফটিকছড়ি উত্তর, তখন সদর দপ্তরও উত্তরাঞ্চলে হওয়া উচিত। সাধারণ মানুষের যৌক্তিক দাবি মেনে সদর দপ্তরের স্থান পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, আমরা সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এম কে এ ২৭ জুলাই ২০২৬
