গাজায় নিজেদের সরকার বিলুপ্ত করল হামাস: বসছে টেকনোক্র্যাট প্রশাসন

দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে গাজা উপত্যকায় শাসন পরিচালনা করে আসা হামাস তাদের প্রশাসনিক সরকার বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে।

সোমবার(৬ জুলাই) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব ফিলিস্তিনি কারিগরি বিশেষজ্ঞদের (টেকনোক্র্যাট) নিয়ে গঠিত একটি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত রয়েছে।

হামাস জানিয়েছে, তাদের রাজনৈতিক প্রশাসনিক কাঠামো বিলুপ্ত হলেও গাজার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং তাদের নিয়োগকৃত কর্মকর্তারা আপাতত দায়িত্বে বহাল থাকবেন। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি অনুযায়ী, বর্তমানে যেসব এলাকা হামাসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে নিরাপত্তা ও পুলিশি কার্যক্রমের তদারকি তারাই চালিয়ে যাবে।

শান্তি পরিকল্পনার প্রেক্ষাপট: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনার একটি অন্যতম শর্ত ছিল হামাসের প্রশাসনিক কাঠামো বিলুপ্ত করা। গত অক্টোবরে ইসরায়েলের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই শান্তি পরিকল্পনাটি সামনে আসে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে এবং বিনিময়ে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করবে।

‘বোর্ড অব পিস’-এর পর্যবেক্ষণ: এই শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের তদারকির দায়িত্বে থাকা মার্কিন-নিযুক্ত ‘বোর্ড অব পিস’ হামাসের এই ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। বোর্ডটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

“আমরা হামাসের এই পদক্ষেপটিকে নথিভুক্ত করেছি। তবে আমাদের চূড়ান্ত মূল্যায়ন কেবল তাদের প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে হবে না, বরং গাজার মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে তারা বাস্তবে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে, তার ভিত্তিতেই হবে।”

ইসরায়েলের নীরবতা ও জটিলতা: এই ঘোষণার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, হামাস অভিযোগ করেছে যে ইসরায়েল বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং শান্তি পরিকল্পনার অন্যান্য ধাপ বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, হামাসের এই ঘোষণা গাজার দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসনের পথে একটি নতুন মোড়। তবে শান্তি পরিকল্পনাটি পুরোপুরি সফল হবে কি না, তা এখন ইসরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং টেকনোক্র্যাট প্রশাসনের কার্যকারিতার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে।

জনপ্রশাসন/ কেএ/ ০৬ জুলাই ২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *