ওয়ার্কশপে হাত হারানো শিশু নাঈম পেল ৩০ লাখ টাকা

ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে ছয় বছর আগে হাত হারানো শিশু নাঈম হাসান নাহিদের নামে ১৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিয়েছে মালিকপক্ষ। পে-অর্ডারের পাশাপাশি ওই তথ্যসংবলিত মালিকপক্ষের আবেদন সোমবার (৬ জুলাই) মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। এ নিয়ে মালিকপক্ষ চারটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে নাঈমকে ৩০ লাখ টাকা দিয়েছে।

নাঈমের হাত হারানোর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তার বাবা মো. নিয়ামুল হোসেন আনোয়ার হাইকোর্টে রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে হাইকোর্ট নাঈমের নামে ১৫ লাখ টাকা করে ১০ বছর মেয়াদে দুটি ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে ওয়ার্কশপের মালিককে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নাঈমের পড়ালেখার খরচ হিসেবে প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা তার ব্যাংক হিসাবে জমা দিতেও মালিকপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ওয়ার্কশপ মালিক ইয়াকুব হোসেন লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। আপিল বিভাগ শুনানি নিয়ে ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।

রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় মালিক ইয়াকুব হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আবেদন করেন রিট আবেদনকারী নিয়ামুল হোসেন। এর ধারাবাহিকতায় রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে উল্লেখ করে আপিল বিভাগে ওই আবেদন দাখিল করেন ওয়ার্কশপ মালিক।

আদালতে শিশুটির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ওমর ফারুক। ওয়ার্কশপ মালিকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার।

পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ওমর ফারুক বলেন, ‘শিশুটির নামে ৫ ও ১০ লাখ টাকার দুটি, অর্থাৎ ১৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিয়েছে মালিকপক্ষ। আদালতের সামনে আজ এই পে-অর্ডার দেওয়া হয়। এর আগে দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়। শিশুটির পড়ালেখার খরচ হিসেবে প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা করে হিসাবে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়েছে মালিকপক্ষ। এর মধ্যে আজ ৪২ হাজার টাকার একটি পে অর্ডার দিয়েছে।’

আপিল বিভাগ মালিকপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করেছেন উল্লেখ করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ওমর ফারুক বলেন, ওয়ার্কশপ মালিককে হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত, বিষয়টি মুলতুবি রেখেছেন।

জনপ্রশাসন/ কেএ/ ০৬ জুলাই ২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *