সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন একেবারেই অন্তিম পর্বে। প্রশাসনিক ও নীতিগত সব জটিলতা পেরিয়ে নতুন এই পে স্কেল আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে গেজেট আকারে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। গেজেট জারিতে কিছুটা বিলম্ব হলেও নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক সুবিধা কার্যকর ধরা হবে ১ জুলাই থেকেই।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বৈঠক-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে নীতিগত সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। এখন কেবল শেষ মুহূর্তের প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা।
নতুন এই কাঠামোর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ধাপে ধাপে এগোচ্ছে খসড়া প্রস্তাবটি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি কমিশনের সুপারিশগুলো খতিয়ে দেখছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে তারা কারিগরি ও গাণিতিক বিষয়গুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষ করবেন।
মন্ত্রিসভায় পেশ: চলতি জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে সচিব কমিটির সুপারিশ সংবলিত খসড়াটি পেশ করা হবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত মেলার পরপরই প্রস্তাবটি যাবে আইন মন্ত্রণালয়ে আইনি ভেটিংয়ের জন্য। এরপর প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত সম্মতি মিললেই অর্থ বিভাগ থেকে জারি হবে প্রতীক্ষিত সেই গেজেট।
২০২৫ সালে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ পেশ করেছিল।
কমিশনের মূল প্রস্তাব ছিল সর্বনিম্ন স্কেল ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করা, সর্বোচ্চ স্কেল ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা। তবে বর্তমান সার্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা, মূল্যস্ফীতি এবং জাতীয় বাজেটের বাড়তি চাপের কথা বিবেচনায় নিয়ে হুবহু কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থ বিভাগ ও পর্যালোচনা কমিটি মিলে কমিশনের সুপারিশ থেকে একটি বাস্তবসম্মত ও সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত করার কাজ করছে।
সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিশ্বাস, নতুন এই বেতন কাঠামো একদিকে যেমন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ভারসাম্যের সাথেও সংগতিপূর্ণ হবে।
জনপ্রশাসন/কেএ/২০ জুলাই ২০২৬
