আনোয়ার হাকিম: বেশ কিছুদিন যাবত ‘জুলাই’ শব্দটিকে হেয় করা, হেনস্তা করা, নাস্তানাবুদ করা, উপড়ে পিষে ফেলা ও বিকৃত নেরেটিভে উপস্থাপনের যে জোর প্রচেষ্টা চলছে তা দেখে ও শুনে আহত না হয়ে পারা যায় না। আজ আমরা ক্রীতদাসত্বকেই হয়ত লাভজনক ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে ধরে নিয়েছি। নীতি- নৈতিকতাবোধকে সীল গালা করে গীবত, নিন্দা, কুৎসা, বিভৎসতা আর হিংসা-দ্বেষ ছড়ানোর উৎসবে মেতে উঠেছি।
কিন্তু তার আশু পরিণতি বা দূর প্রসারী ক্ষতি আমাদেরকে জাতি হিসেবে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা এখনও উপলব্ধি করতে পারছি না, করতে চাচ্ছিও না। নিছক জেদ, ঈর্ষা, বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা, পরশ্রীকাতরতা ও রিমোট কানেকশনের লাভালাভে আজ আমরা উন্মত্ত।
বাংগালী শংকর জাতি। বিভিন্ন জাতিসত্তার রক্তের মিশ্রণে আমাদের পরম্পরা। আমরা ঐক্যের দর্শনে খুব কমই অভ্যস্ত। আমাদের চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে অজস্র খাদ মিশ্রিত থাকে। তাই কোনো কিছু পরিপূর্ণভাবে পাওয়ার আগেই ভাগবাটোয়ারার পাটিগণিত করে ছলাকলার আশ্রয় নিয়ে সম্ভাবনাময় গতিপথ অপথে- বেপথে -কুপথে পরিচালিত করে দিতে এ হেন কাজ নেই যা আমরা করি না।
জুলাই এসেছিলো বড় ক্যানভাসে নতুন রূপ-রস- গন্ধ ও বর্ণের ডালা নিয়ে। পরাজিত শক্তির দোসর ছাড়া সবাই জুলাই গাঁথার সাথে একাত্মতা পোষণ করেছিলো। যারা বিরোধিতা করেছিলো তারা চিহ্নিত, ধিকৃত, অন্ধ ও বিজাতীয় মদদপুষ্ট। আর যারা গেলো রেজিমের ১৫ বছরে ছিলেন চরমভাবে নিষ্পেষিত, জেল- জুলুম-নির্যাতন আর আক্রোশের শিকার জুলাই তাদেরকে হঠাৎ করেই দিয়েছিলো কারামুক্ত সুনীল আকাশ, নতুন স্বাধীনতার স্বাদ আর নতুন স্বপ্নে উদ্বেলিত হওয়ার অনুপ্রেরণা। বাংগালি খুব সহজেই অতীত ভুলে যায়।
৩৬ শে জুলাইয়ের মুক্ত বাতাসে যারা কেঁদে কেটে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন, আবেগে নতুন জীবন পেয়েছেন বলে জুলাই যোদ্ধাদের কথা রাজপথেই অকপটে স্বীকার করেছেন ও তাদের জন্য প্রাণখুলে দোয়াও করেছেন আজ তাদেরই একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, ক্ষমতাসার স্বাদ পেয়ে, বিপরীত বয়ান দিয়ে বেড়াচ্ছেন। এর চেয়ে বড় গাদ্দারীর প্রকৃষ্ট উদাহরণ আর কী হতে পারে? জন আকাঙ্খার বিপরীতে গিয়ে অভিশাপ কুড়োনো গোষ্ঠী একদিন তার মূল্য দিবে খুব চড়া দামে এটাই স্বাভাবিক। তাতে তাদের বিনাশ হবে কিন্তু জাতি হিসেবে আমাদের ঘুরে দাঁড়াবার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে।
তারা কি বলছেন, কেন জুলাইকে প্রকারান্তরে অস্বীকার বা অবজ্ঞা করছেন তারা নিজেরাও জানেন কিনা জানি না তবে অনেকেই যে পূর্বেকৃত আঁতাত আর আপোষের দাসখত উন্মোচিত হওয়ার ভয়ে এসব আওড়াচ্ছেন তা পাবলিক বেমালুম বুঝতে পারছে। যারা জুলাইয়ের প্রত্যক্ষ বেনিফিসিয়ারি তাদের অনেকেই আজ বিশ্রী ভাষায় ও অশোভনীয় বডি ল্যাংগুয়েজে জুলাইয়ের পিণ্ডি চটকাচ্ছেন। ইউটিউব আর টক শোর টেবিলে, বক্তব্য আর বিবৃতিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খোঁচাখুঁচি করছেন। জুলাই আমাদের অপার সম্ভাবনার দ্বারোদঘাটন করেছিলো, এসেছিলো আমাদের পঞ্চান্ন বছরের ভুলভাল পথচলার বিপরীতে ঘুরে দাঁড়াবার আলোকবর্তিকা হিসেবে।

জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তারা দেশে মবতন্ত্র কায়েম করেছে, মানুষকে অপমান-অপদস্থ করে সামাজিক কাঠামোকে তছনছ করে দিয়েছে। জুলুম চাঁদাবাজির ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। তাদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দুর্জন তোষণের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
তাদের কারো কারো বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তি বেশ লম্বা যেমন: তারা জুলাইয়ের আগে ফুটপাত থেকে কেনা ত্যানা পড়তেন অথচ জুলাই পরবর্তী ব্র্যাণ্ড কালচারে অভ্যস্ত হয়েছেন, আগে বাসে – রিক্সায় চলাচল করতেন এখন প্রাডো ইত্যাদি হাঁকান , আলিশান ভবনে অফিস করেন, ফাইভ স্টারে ইফতার- আপ্যায়নের আয়োজন করেন, সে টাকাই বা পান কোথা থেকে, ওয়েস্ট ইনে হাঁসের মাংসের রুচি কবে থেকে হলো ইত্যাদি। এগুলোর সবগুলোই হয়ত সত্য না, আবার সবগুলোই হয়ত মিথ্যাও না।
তদন্ত ও প্রমান সাপেক্ষ। কথা উঠেছে জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা নিয়েও। স্বাধীনতার পর থেকে আজতক কোন তালিকাটি আমরা প্রশ্নাতীতভাবে তৈরি করতে পেরেছি? মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ, হাস্যরসাত্মক অনেক কথা শোনা যায়। অনেকে হিজরত না করেই মুক্তিযোদ্ধা, অনেকে এখনো বানিয়ে বানিয়েও বলতে পারেন না কোন সেক্টরে কার অধীনে কোথায় কোথায় তিনি যুদ্ধ করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অনেকের বয়স নিয়েও বিস্তর কথা চালু আছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেই ঝাঁপি বন্ধ করে দিয়েছিলো উপরে নিক্ষিপ্ত থুতু নিজেদের গায়ে পড়তে শুরু করছিলো বলে।
আমরা ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়ষ্ক ভাতা, ত্রাণের তালিকাও তো সহি ভাবে তৈরি করতে পারি নি কখনো। অথচ যারা এসব তালিকা বিগত পঞ্চান্ন বছর ধরে নয়ছয় করে তৈরি করেছেন, লুটেপাটের অনুমোদন ও আসকারা দিয়েছেন তারাই আজ সমস্বরে জুলাই যোদ্ধাদের তালিকার সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। প্রশ্ন তুলছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কী হলো? বৈষম্য কি কমেছে? অথচ পঞ্চান্ন বছরে নিরীখে আঠারো মাসের বেহাত বিপ্লবের কথা কেউ একটি বারের জন্যও বলেন না।
এখন এমন একটা অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে যেন জুলাই যোদ্ধারা সমাজের চোখে হাস্যকর, অসাধু, বিপথগামী, ডানপন্থী উগ্রবাদীদের খপ্পরে পড়া পথভ্রষ্ট পাপিষ্ঠ কোনো গোষ্ঠী। অভিযোগ উত্থাপনকারীদের কেউ কেউ এতদিন ঘাপটি মেরে থেকে আজ প্রকাশ্যে কাশতে শুরু করেছেন। নতুন নতুন বয়ান তৈরি করে জুলাইকে জাতির জন্য অভিশাপ হিসেবে চিত্রায়িত করার দু:সাহস দেখাচ্ছেন। যারা জুলাইয়ের সুফলভোগী ক্ষমতাসীন তাদের মধ্যেও কেউ কেউ তাদের সাথে গাঁটছড়া বেধেছেন।
অথচ তাদেরই দায়িত্ব ছিলো জুলাইকে কার্যকরণে রূপান্তর করা। জুলাই সনদ লিখিত ও গৃহীত হয়েছিলো। আজ তা নিয়ে কথা নেই। কথা বলাও যেন পাপ। ঐকমত্যের জুলাই ঘোষণা পত্র নিয়েও এখন টু শব্দটি নেই। অথচ এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও নির্ধারিত ছিলো। ঐকমত্য কমিশনে অংশগ্রহণকারী প্রায় সবাই অঙ্গীকার করেছিলেন নির্বাচিত পার্লামেন্টে বসে তারা জুলাই সনদের প্রতিটি বিষয় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন।

স্বাধীনতার পর কেন্দ্রে শিক্ষিত এক ঝাঁক তরুন তুর্কী ছাত্র নেতৃত্ব থাকা সত্বেও আমরা কেন অরাজকতাকে সামাল দিতে পারিনি সে কথা সুশীল নামধারী শুকপাখীরা আজ আর মুখেও আনেন না। কেন তখন গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা যায় নি সে প্রশ্ন আজ কেউ তুলেন না। অথচ যত দোষ সব জুলাই যোদ্ধাদের। ৩৬ জুলাইয়ের পর মুক্ত জমিনে একের পর এক কারা হাঙ্গামা সৃষ্টি করেছিলো তাদের নামটি পর্যন্ত আজ কোন মিডিয়ায় উচ্চারিত হয় না। কী করে ভুলে যাই মহানগরে ডাকাতের বেশে পরাজিত বর্গীদের উৎপাত, পুলিশের পলায়ন আর নিরুদ্দেশ যাত্রার কথা? কী করে ভুলে যাই আনসার আর পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারীদের নামে পরাজিত রেজিমেন্টের সচিবালয় ভাংচুরের কথা?
পেশাজীবিদের ব্যানারে, সরকারি চাকুরীজীবিদের নামে সিরিজ দাবীদাওয়ার বাহানায় শাহবাগ, যমুনা, সচিবালয় ঘেরাও, অবরোধ, মারমুখী বিশৃঙ্খলা আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছুটোছুটির কথা? যে সচিবালয় ছিলো এতদিন সুরক্ষিত দূর্গের মত সেটাও তছনছ হয়েছে একাধিকবার। কারা করেছিলো? জুলাই যোদ্ধারা? মিডিয়া লাইভ টেলিকাস্ট করেছে এসব, ইউটিউব চ্যানেলগুলো এগুলো দেখিয়ে ডলার কামাই করেছে প্রচুর আর সমসাময়িক ঘটনা প্রবাহ বিশ্লেষণের নামে অনেক ‘পররাষ্ট্রপালিত বিশ্লেষক’ ইনিয়ে বিনিয়ে আগেরটাই ভালো ছিলো গীত বারবার উচ্চারণ করেছিলেন। এসব চিত্র আজ ফিকে হয়ে গেছে, কিন্তু হারিয়ে যায় নি। নতুন রূপে কালের পরিক্রমায় সময়ের প্রয়োজনে নিশ্চয়ই তা আবার উদ্ভাসিত হবে।
জুলাই নিয়ে গাত্রদাহের কারণ অনেক। যেমন: ৩৬ জুলাইয়ের পর ড: ইউনূস কেন হাল ধরলেন? ছাত্ররা কেন ক্ষমতাবান হয়ে উঠলো? সচিবালয়, শাহবাগ, যমুনা ঘেরাওকারীদের ইন্টেরিম কেন বেধরক পেটালো না? পেটালে ফ্যাসিস্ট শক্তি বিশৃঙ্খল পরিবেশে খুব সহজেই মাছ শিকার করতে পারত। উজান দেশের সৃষ্ট বন্যা, বিশেষত ফেনীর বন্যা, কেন সুষ্ঠুভাবে সামাল দেওয়া হলো? কেন পছন্দের ডিপ স্টেট অকার্যকর হয়ে পড়লো? কারা করলো? কিসের বিনিময়ে? কেন ইসলাম মনস্ক জনতা রাস্তায় সরব হয়ে উঠেছে? কেন দিল্লী না ঢাকা শ্লোগানে মুখরিত থেকেছে রাজধানী? কেন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ক্রমশ? এরকম অজস্র দোষ উল্লেখ করা হলেও তালিকা অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।
জুলাইকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে পরাজিত শক্তি ও তাদের বিদেশি প্রভু। এটা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু এর সাথে শরিক হয়েছে আরো অনেক অনেক গোষ্ঠী। মিডিয়া তাদের অন্যতম। কিছুকাল ঝিম মেরে পরিস্থিতি নিরীক্ষণ করার পর বর্তমান গণতান্ত্রিক আবহাওয়াকে পুঁজি করে তারা এখন যথেষ্ট সাহসী হয়ে উঠেছে। আগে ইনিয়ে বিনিয়ে পেচিয়ে কথা বলত আর এখন সরাসরি কোনো রাখঢাক না রেখেই বয়ান তৈরি ও ফেরি করে বেড়াচ্ছে। তারা সাংঘাতিক সব ইউটিউব কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, স্বঘোষিত কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক। আর এদের সহবতে আছে চিহ্নিত কিছু সুশীল নামধারী বুদ্ধিজীবি, পোষ্য এজেন্ট ও নির্যাস লেহনকারী।
প্রগতির নাম দিয়ে বাম ঘরানার অনেক দলই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিপক্ষে পররাষ্ট্রের লেজুড়বৃত্তি করে গেছে, এখনো করে যাচ্ছে। আরো রয়েছে প্রচণ্ড ইসলাম বিরোধী, বিদ্বেষ প্রক্ষেপণকারী কিছু চিহ্নিত নারীবাদী ও তাদের সংগঠন। বর্তমান ক্ষমতাসীনদের মধ্যেও গুপ্ত নামে সুপ্ত আছে কিছু রাজনীতিক। হয়ত এদের নাটাই ভিন দেশের কোনো এজেন্সীর জিম্মায় রয়েছে। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে জুলাই নিয়ে প্রপাগাণ্ডা, বিকৃত ও অশ্লীল বয়ান তৈরি হবে না কেন?
জুলাইয়ের সবচেয়ে বেনিফিসিয়ারি হলেন বয়সের ভারে ন্যুব্জ অনভিজ্ঞ বেশ কিছু উপদেষ্টা। তারাও এখন জুলাইকে ম্লান করার অপচেষ্টায় কোমর কেচে নেমেছেন। ঘাপটি মেরে থাকা এসব বয়োবৃদ্ধ শার্দুলরা এখন কিচেন কেবিনেট নিয়ে অযথা সরব হয়েছেন। একে একে অনেকেই বলছেন, কিচেন কেবিনেট ছিলো সত্য, তারা সপ্তাহে প্রতি মঙ্গলবার বসত এটাও সত্য, কিন্তু তিনি ছিলেন না। কেউ কেউ অভিমান নিয়ে বলেছেন, তাকে জানানোও হত না।

এ যেন ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাই না জাতীয় ব্যাপার। তারা কি ভীত? তারা কি অগ্রীম সাফাই সাক্ষ্য দিয়ে রাখছেন? নাকি নতুন করে কোন শক্তির আনুকূল্য পেতে সচেষ্ট? মন্ত্রী, উপদেষ্টারা সংবিধানে উল্লেখকৃত আনুগত্য ও গোপনীয়তার শপথ নিয়ে থাকেন। তার কি কোন মেয়াদ উল্লেখ আছে? বিষয়গুলো আগামীর ‘বিবেচ্য’ হিসেবে তোলা থাকলো।
জুলাইকে গ্লোরিফাই করার পরিবর্তে একে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সবাই আজ উঠেপড়ে লেগেছে। বলা হচ্ছে, ইন্টেরিমের সময় এত এত দুর্নীতি হয়েছে, হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। সরকারের উচিত এগুলোর স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা। দোষীদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। দেশবাসীও তা চায়। এতে বাধ সেধেছে কে? তাতে কি গেলো রেজিমের জুলুম আর লুটপাটতন্ত্র জায়েজ হয়ে যাবে?
নির্বাচিত সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ ঘাড়ের উপর গভীর তপ্ত নি:শ্বাস ফেলছে। পুলিশ ও প্রশাসন এখনো শৃঙ্খলায় আনা যায় নি। বিশেষত পুলিশ। এদের মনোবল বলতে কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। ঘুরে দাঁড়াবার ইচ্ছেও রয়েছে বলে মনে হয় না। সরকারি – বেসরকারি বিভিন্ন পেশা ও বাহিনীর যারা কারাভ্যন্তরে আছেন তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় শক্তভাবে উপস্থাপন করা সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আর যারা মুক্ত বিহঙ্গের মত ঘুরে বেড়াচ্ছে, টক শো, চ্যানেল শো, কন্টেন্ট ব্লো করে বেড়াচ্ছে তারাও বর্তমান সরকারের বিপরীত শক্তির পূজারী। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে তাই জনগণ আর ছাত্রশক্তিই একমাত্র ভরসার স্থল। এদেরকে সঠিকভাবে লালন পালন করতে না পারলে, কদর না করলে স্বতঃস্ফূর্ত আরেক জুলাইয়ের ঢেউ আসা সময়ের ব্যাপার। পরাজিত শক্তির বাইরে থেকে ইঞ্জেক্ট করা ‘কেওয়াস’ প্রচেষ্টা মোটেই আশ্চর্যের কিছু হবে না।
সুশাসন প্রতিষ্ঠা , শত্রু- মিত্র চিনতে পারা, অভিন্ন মিত্র বলয় সম্প্রসারণ আর ইনসাফ কায়েম করাই হতে পারে নির্বাচিত সরকারের মূল চালিকা শক্তি ও রক্ষা কবচ। জুলাই নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা এখন সময়ের দাবী এবং সে অনুযায়ী কৃত অঙ্গীকার বাস্তবায়ন জরুরি। জনগণ সেদিকেই তাকিয়ে আছে।
জুলাই যোদ্ধারা এখন আর ক্ষমতায় নেই, তাদের নেতাদের বেশিরভাগই নিষ্ক্রিয় বা হালে পানি পাচ্ছে না। তাদের অনেকেরই জনভিত্তি নেই, অনেকেই বিভ্রান্ত, পথভ্রষ্ট। আর যারা তাদের এককালীন গুরু তারা পদ পদবী নিয়ে কখনো সরব কখনো নিরব। ইতিহাস এভাবেই প্রতিনিয়ত লেখা হয়ে যাচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষী কালে কালে ‘কালবেলা’ আসতে সময় নেয় না। সামাল দেওয়ার সে সক্ষমতা কি আমাদের আছে? তাই, সাধু সাবধান। সবার সুবোধ জাগ্রত হোক। # লেখক: সাবেক সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
জনপ্রশাসন/ এফওয়াই/ জেডআরসি/ ০৫ আগস্ট ২০২৬
