চলতি ২০২৬ বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক বাজারে বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য অনুযায়ী, এই ছয় মাসে চীন এককভাবে প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের পোশাকের বাজার হারিয়েছে। তবে চীন থেকে সরে যাওয়া এই বিশাল ক্রয়াদেশের উল্লেখযোগ্য সুবিধা বাংলাদেশ নিতে পারছে না; বরং সুযোগটি লুফে নিচ্ছে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া।
মার্কিন বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিক পোশাক আমদানি ৮% কমে দাঁড়ায় ৩,৫০৯ কোটি ডলারে। বাজারে মন্দা ভাব থাকলেও প্রতিযোগীদের চিত্র ছিল ভিন্ন:
চীন (ধস): রপ্তানি ৩৭.৬৯% কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫৭ কোটি ডলারে (গত বছর ছিল ৫৭৩ কোটি ডলার)।
বাংলাদেশ (দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখলেও পতন): রপ্তানি ৫.৭৫% কমে দাঁড়িয়েছে ৪০১ কোটি ডলারে। তবে চীনকে টপকে ফেব্রুয়ারি থেকে ধরে রাখা দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে বাংলাদেশ।
বিজয়ীদের জয়জয়কার: ভিয়েতনাম প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে রপ্তানি করেছে ৭৮৫ কোটি ডলার (+১%)। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া ২৩৩ কোটি ডলার (+৩%) এবং কম্বোডিয়া ২১৩ কোটি ডলারের (+১২%) পোশাক পাঠিয়েছে।
চীনের বাজার বাংলাদেশ কেন পাচ্ছে না
পোশাক খাতের উদ্যোক্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে চীন থেকে সরে আসা অর্ডার বাংলাদেশে আসছে না:
কৃত্রিম তন্তুর (MMF) দুর্বলতা: মার্কিন বাজারে এখন কৃত্রিম তন্তু বা ম্যানমেইড ফাইবারের পোশাকের চাহিদা বেশি। চীনের ছেড়ে দেওয়া অর্ডারগুলোর বড় অংশই এই ক্যাটাগরির, যেখানে বাংলাদেশের দক্ষতা কটন বা তুলানির্ভর পোশাকের তুলনায় কম।
দীর্ঘ ‘লিড টাইম’ (Lead Time): ফাস্ট ফ্যাশনের যুগে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া মাত্র এক মাসের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে পারে। দুর্বল লজিস্টিকস ও সোর্সিং জটিলতার কারণে বাংলাদেশ তাদের চেয়ে পিছিয়ে থাকে।
জ্বালানিসংকট: দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকটের কারণে কারখানাগুলোর স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
আগামী দিনের নতুন আশার আলো
সামনে খারাপ দিন কাটিয়ে ওঠার কিছু ইতিবাচক কারণও তৈরি হয়েছে। মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক নীতি অনুযায়ী, বাধ্যবাধকতামূলক বিধিনিষেধের আওতায় দেশভিত্তিক নতুন অতিরিক্ত শুল্ক বসানো হয়েছে। ফলে ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশ সরাসরি ২.৫% শুল্ক সুবিধা (Tariff Advantage) পাচ্ছে, যা মার্কিন ক্রেতাদের বাংলাদেশে আসতে উৎসাহিত করছে।
স্প্যারো গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালকশোভন ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেছেন, আমরা আড়াই শতাংশ শুল্ক ছাড়ের সুবিধা পাচ্ছি। বছরের প্রথমার্ধে খারাপ করলেও সামনে ভালো করার বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ভিয়েতনাম থেকে সরে আসা দুটি বড় ক্রয়াদেশ আমরা পেয়েছি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ শুল্ক সুবিধার কারণে নতুন ক্রয়াদেশ পেতে শুরু করলেও, দীর্ঘমেয়াদে চীনের ছেড়ে দেওয়া বাজার পুরোপুরি ধরতে হলে বাংলাদেশকে কৃত্রিম তন্তুর কাপড়ে বিনিয়োগ বাড়ানো, শিপমেন্টের লিড টাইম কমানো এবং জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানিসংকট নিরসন করতে হবে।
জনপ্রশাসন /কেএ/ ০৮ আগস্ট ২০২৬
